ওই যে হাতটা দেখছ ওটা শুধুমাত্র আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার হাত নয়।

ওই যে হাতটা দেখছ ওটা শুধুমাত্র আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার হাত নয়, ওটা ভারতবর্ষের কোটি কোটি হিন্দুর হাত।

ওই যে হাতটা দেখছ ওটা শুধুমাত্র আইবি অফিসার অঙ্কিত শর্মার হাত নয়।

অঙ্কিত শর্মার দেহে চারশোবার ছুরির আঘাত করা হয়েছে। হ্যা ঠিকই পরেছেন, একবার দুবার নয়, এমনকি পঞ্চাশ বা একশোবারও নয়। চারশো আঘাত করা হয়েছে অঙ্কিত শর্মার দেহে। আচ্ছা এখন আপনাদের লজ্জা হচ্ছেনা? কাল অবধি যারা বলছিলেন আমি হিন্দু, আমি লজ্জিত, আজ কি তারা একবারও তাদের মুসলিম বন্ধুটিকে জিজ্ঞেস করবেন যে অঙ্কিত শর্মার মৃত্যুর জন্য, সে লজ্জিত কিনা মুসলিম বলে? নাকি উত্তরটা জানেন বলেই আপনাদের সাহস নেই এই প্রশ্ন কোন মুসলিমকে করার? এমনকি আপনার নিজেরও সাহস নেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রশ্ন করার যে আপনার তথাকথিত সেকুলারিজিমের জন্য আপনি লজ্জিত কিনা। কারন প্রশ্নগুলো সবই জানা, আর উত্তরও খুব সহজ।

এখন শুনছি নাকি কপিল শর্মাই সব দোষের মূলে। আচ্ছা এই যে গত দুমাস ধরে অকারনে একপক্ষ আন্দোলনের নামে প্রথমে হিংসাত্মক দাঙ্গা চালালো, তারপরেও নিজেদের জোর দেখানোর জন্য যত্রতত্র রাস্তায় বসল। সেখান থেকে কখনও কেউ আসামকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার ডাক দিল। কেউ পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিল। কেউ আবার জানিয়ে দিল ১০০ কোটি ভারতীয়ের জন্য ১৫ কোটি মুসলিমই যথেষ্ট। এগুলো উস্কানি নয়? এমনকি আপনারাও কখনও জামিয়ায় ছাত্র মৃত্যুর ভুয়ো খবর ছড়ালেন, কখনও মসজিদ ভাংচুরের ভুয়ো ভিডিও ছড়ালেন। আপনাদের কখনও মুর্শিদাবাদ বা উলুবেড়িয়ায় আন্দোলনের নামে তান্ডবকে সমর্থন করলেন। আপনাদের মনে হয়নি একবারও যে আপনারা দাঙ্গায় মদত দিচ্ছেন।

এই নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন, এতে এদেশের মুসলমানদের ঠিক কোন অধিকারটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তা আপনারা আজও বলতে পারেননি। উলটে ক্রমাগত বুঝিয়ে গেলেন যে এই আইনের ফলে নাকি মুসলিমদের দ্বিতীয়  শ্রেনীর নাগরিক করে দেওয়া হচ্ছে। তখন একবারও আপনাদের মনে হয়নি আসলে আপনারাই এই দাঙ্গা লাগালেন। আপনারা জানেন আপনারাই দাঙ্গা লাগিয়েছেন। রোজ রোজ একটু একটু করে উস্কানি দিয়ে গেছেন। আর আজ এখন মিথ্যা মড়াকান্না কাঁদতে বসে গেছেন। অনুরাগ শুক্লা বা কপিল মিশ্ররা তো জঘন্য দাঙ্গাকারী বুঝলাম। কিন্তু আপনারা কী?

আপনাদেরই দলের লোক স্বরা ভাস্কর, যিনি নাকি অভিনেত্রী! আদতে যে ঐ নামে কোন অভিনেত্রী ছিল তাই ভারতে এখনও অনেক লোক জানেনা। তিনি বললেন এনআরসি-তে নাকি ভয়ংকর সব ধারা রাখা হয়েছে! তিনি কোথায় সেই ধারা দেখেছেন তা তিনিও জানেননা, আপনারাও জানেননা, আমরাও জানিনা। কিন্তু তাও রোজ তিনি এবং আপনি, দুজনেই রোজ মিথ্যে বলে গেলেন। কেউ ঠাণ্ডা ঘরে বসে, কেউ আবার দেশেও নেই, বিদেশে। আসলে আপনারা এতোদিন উদ্বাস্তুদের আড়ালে অনুপ্রবেশকারীদের লুকিয়ে রেখে মানবতার নামে ব্যবসা চালিয়েছেন। আজ উদ্বাস্তুরা তাদের অধিকার পেলে, অনুপ্রবেশকারীদের আড়াল চলে যাবে। আপনাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আপনারা আপ্রান চেষ্টা করছেন পুরো বিষয়টাকে গুলিয়ে দিয়ে ঘুলিয়ে দেওয়ার।

আজ তো নিশ্চয় আপনারা খুশি যে দাঙ্গা লাগানো গেছে। দাঙ্গায় ২৪ জন হিন্দুর প্রান নেওয়া গেছে। হাতের রক্ত চাটছেন আর খুব স্বাদ পাচ্ছেন নিশ্চয়। কি বললেন, ১২ জন মুসলিমও মারা গেছে। তাদের নিয়ে আপনার এতোটুকু চিন্তা আছে? আপনাদের কাছে তারা কোল্যাটারাল ড্যামেজের বাইরে আর অন্য কিছুই নয়। আসলে আপনারা খুশি হয়েছেন ঐ বারো জন মারা গেছে বলে। কারন ঐ বারোজনের লাশের উপরে আপনারা এবার সেকুলারিজমের নেত্য করবেন। বাকী এই লাশ হয়ে যাওয়া শরীরগুলোর জন্য আপনাদের চোখ থেকে একফোঁটা জলও পড়বেনা। আপনাদের সেকুলারিজমের এমনই অবস্থা যে মহম্মদ শাহরুখকে শাহরুখ শুক্লা করার জন্য উঠেপড়ে লাগতে হয়েছে এখন আপনাদের। এরপর হয়ত শুনব ইমরান তাহিরের পুরো নাম আসলে ইমরান তাহির পান্ডে।

আপনারা সব কিছুতেই বিজেপি দেখেন। আচ্ছা একটা খুব সোজা প্রশ্নের উত্তর দিন তো! ভোট মিটে যাওয়ার পরে, যেদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সারা বিশ্বের মিডিয়া দিল্লীতে রয়েছে, সেদিন দাঙ্গা লাগিয়ে বিজেপির কি লাভ হোল? ত্যানা পেঁচাবেননা। উত্তর থাকলে উত্তর দিন, না থাকলে চুপ করে যান। অবশ্য আপনারা কোনটাই করতে পারবেননা। কারন আপনরাও এই দাঙ্গার অংশীদার। এই দাঙ্গায় ইমরান তাহির যেমন খুনী, তেমনই আপনারাও খুনী। তাই আপনাদের কাছে কোন উত্তর নেই। সরকারের সব থেকে বড় দোষ হচ্ছে অত্যাধিক সহিষ্ণুতা দেখানো। যখন এর আগে ডিসেম্বর মাসে দাঙ্গা চালানো হয়েছিল। যখন কেউ পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়েছে। কেউ ১৫ কোটি দেখিয়েছে, তখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল এই বেয়াদবি বন্ধ করার জন্য, আপনাদের মতো ভন্ড সেকুলাররা কি ভাববে বা বলবে তা না ভেবে।

আমাদের হিন্দুদের কথা বলার যে কেউ নেই, তা আমরা খুব ভালোই জানি। কারন আমাদের কথা বলার জন্য আরবি দিনার আসেনা। আমাদের কথা বলে প্রগতিশীল হওয়া যায়না। তাই আমাদের রক্ত আপনাদের চোখে পরেনা। আমাদের মানবাধিকারের কথা আপনাদের মনে পরেনা। আজ একজন মুসলিম আক্রান্ত হলে আপনারা হিন্দু হিসাবে লজ্জা পান, কিন্তু অঙ্কিত শর্মাদের জন্য আপনাদের চোখে এক ফোঁটা জলও আসেনা। হিন্দুই তো। পরে পরে মার খাবে। দাঙ্গায় খুন হবে। আর তারপর নিজেই দাঙ্গাকারী আখ্যা পাবে এটাই স্বাভাবিক। আফজল গুরুর জন্য মাঝরাতে কোর্ট বসবে। কিন্তু নির্ভয়ার মা বাবা বছরের পর বছর আদালতের দরজায় বিচার ভিক্ষা করে বেড়াবেন। কারন হিন্দু তো। ভারতের সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন।

আচ্ছা এই যে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলছেন, পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিতে দিতে, আসামকে ভারত থেকে টুকরো করার কথা বলতে বলতে একবারও আপনাদের মনে পরেনা বাংলাদেশের, পাকিস্তানে, কাশ্মীরে আপনারা হিন্দুদের সাথে কি করেছেন? ঠিক কতো লক্ষ্য হিন্দু এই সব জায়গায় ধর্ষিত হয়েছে, খুন হয়েছে এবং উদ্বাস্তু হয়েছে। এগুলোর জন্য আপনাদের একবারও ক্ষমা চাওয়ার কথা মনে হয়না? মনে হবেই বা কেন বলুন, আমরা তো হিন্দু। আমরা পোকা মাকড়ের মতো মরব, এটাই তো স্বাভাবিক আপনাদের মতে। কিন্তু দুঃখিত আপনাদের এই মনোকামনা আমরা এখনই পুরো করতে পারছিনা।

একটা কথা স্পষ্ট করে বলি। আপনারা সেকুলার নন, তাই আমাদেরও সেকুলার হওয়ার কোন দায় নেই। সম্প্রীতি মানে তোষণ নয়। সম্প্রীতি মানে পারস্পরিক সম্মান। আপনারা যে সেকুলারিজমের কথা বলেন, সেই সেকুলারিজম লাশ হয়ে দিল্লীর নর্দমায় পরে আছে। তাই আপনাদের মতো দাঙ্গাবাজদের কাছে আমরা সেকুলারিজমের বাণী শুনবনা। আমরা জানি আমরা হিন্দু। আমাদের কথা যদি আমরা নিজেরা না বলি তাহলে আমাদের কথা বলার আর কেউ নেই। তাই আমরা আমাদের কথা বারেবারেই বলব। তাতে আপনারা কি ভাববেন তা নিয়ে আমরা বিন্দুমাত্রও ভাবিত নই। আত্মরক্ষার অধিকার আমাদের সবার আছে। আমরা বসিরহাট দেখেছি, ধূলাগড় দেখেছি, ক্যানিং দেখেছি, দেগঙ্গা দেখেছি। ১৯৪৬-এর নোয়াখালি দেখেছি, ৭১ দেখেছি এবং এখনও দেখেই চলেছি।  আপনাদের মতো দাঙ্গাবাজরা আমাদের সম্বন্ধে কি ভাবল তা নিয়ে আমাদের কিছু যায় আসেনা। আমরা জানি আমাদের বাঁচতে হবে। এই দেশ আমাদের, সেই দেশে আমাদের অধিকার বজায় রাখতে হবে। তাই দেশের স্বার্থেই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।